
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম।
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার অন্তর্গত শালবাহান ইউনিয়নের লোকসংখ্যা প্রায় ২২,০০০ জন।এর মধ্যে:পুরুষ: প্রায় ১১,৭০০ জন।নারী: প্রায় ১০,৩০০ জন।এই ইউনিয়নে মোট ৬টি মৌজা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু এবং ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ কে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ৪ মাস ধরে ইউনিয়নে নাগরিক সেবা কার্যত
মুখ থুবড়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জনসাধারণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সব কটি কক্ষে তালা ঝুলছে । এব্যাপার দেখার কেউ নেই।
এ সময় চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর, ইউপি সদস্য কিংবা উদ্যোক্তা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। ফলে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, প্রণোদনা, হাট-বাজার ইজারা বা গরু বিক্রির অনুমোদনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা অন্তত ১২-১৫ জন সেবাপ্রার্থীকে ইউনিয়ন নাগরিক সেবা না পেয়ে তারা খালি হাতে
ফিরে যেতে যান।
ভুক্তভোগী চা শ্রমিক জুলফিকার আলী, সোবাহান আলী, আব্দুস সামাদ ও মোশারফসহ আরও অনেকে দ্রুত এ একটি সমাধান চান। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা চরম দুর্ভোগে ভুগেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেতুলিয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে শালবাহান ইউনিয়ন রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস এ ইউনিয়নে। গত বছরের অক্টোবর মাসে শালবাহান হাট উন্নয়নের বরাদ্দকে কেন্দ্র করে ইউএনও ও চেয়ারম্যানের মধ্যে মতবিরোধের সূত্রপাত হয়।
পরবর্তীতে ইউএনও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ, এরপরও ইউএনও মৌখিকভাবে চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালনে বিরত রাখেন। ফলে জানুয়ারি মাস থেকে চেয়ারম্যান কোনো নথিতে স্বাক্ষর করতে পারছেন না এবং প্রয়োজনীয় ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড না থাকায় সেবা কার্যক্রমও পরিচালনা বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবুও আমাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এর কোনো লিখিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তাকে যোগদানের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এব্যাপার ইউপির চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম আরো জানান, মিথ্যা অভিযোগ প্রমান হওয়ার পরে দীর্ঘ ৪ মাস থেকে ইউনিয়নের সেবা প্রদানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক বাধা দিয়ে আসছেন। কাউকে মিথ্যা মামলার ফাঁদে ফেলে হয়রানি করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ অবস্থায় দ্রুত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আপনার মতামত লিখুন :