মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসন: ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা; চা শ্রমিক ও সংখ্যলঘু ভোটার ফ্যাক্টর


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন /
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসন:  ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা; চা শ্রমিক ও সংখ্যলঘু ভোটার ফ্যাক্টর

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

চা বাগান ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনটিও আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত। এ আসনে ২টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে ১৬৩টি কেন্দ্রে মোট ৪ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৮ ভোট রয়েছে। এবার আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচনে এ আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলে চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারই মূল ফ্যাক্টর হবে বলে সচেতন মহলের ধারণা। প্রথমে বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দিতার সূর থাকলেও শেষ মুহুর্তে ১১ দলীয় জোটের এক প্রার্থীর সাথে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। শেষ মুহুর্তে এসে প্রশ্ন একটাই শেষ পর্যন্ত কে হাসবেন বিজয়ের হাসি?

নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। প্রচার-প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সময় শেষ হলেও প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ থেমে নেই। ভোটের অঙ্ক কষা, কেন্দ্রভিত্তিক সমন্বয়, এজেন্ট প্রস্তুত করা সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা, বাড়ছে আলোচনা-সমালোচনা। ছয় প্রার্থীর লড়াই, আলোচনায় তিন প্রতীক।

এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপি’র প্রার্থী বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য  মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), বিএনপি’র বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী, শ্রীমমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল), ১১ দলীয় ঐক্য জোটের সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী (রিকশা), জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙ্গল) ও বাসদ প্রার্থী মো. আবুল হাসান (মই)।

তবে ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ধানের শীষ, ফুটবল ও রিকশা প্রতীক। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তিন প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দি¦তা গড়ে উঠেছে। ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতার আভাস স্পষ্ট।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার হাট-বাজার, চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে চা-বাগান ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। কে এগিয়ে, কার ভোট ব্যাংক কতটা শক্ত এসব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গোপন রেখেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও প্রথমবারের ভোটারদের অবস্থান নিয়েও কৌতূহল রয়েছে প্রার্থীদের মধ্যে।
স্বাধীনতার পর থেকে চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনে এই আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ আসনের সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতা আসনটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক শক্তিও ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘেœ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ, ভোটের অঙ্ক, মাঠের পরিস্থিতি সব কিছু মিলিয়ে এ আসনটি এখন জেলার সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচনী কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি কে হাসবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।