
কুলাউড়া প্রতিনিধি:
কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ.স.ম কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিষেধাগার মন্তব্য করলেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ উপজেলা কমিটির সহসভাপতি একেএম সফি আহমদ সলমান।
প্রসঙ্গত, গত ১০ নভেম্বর কুলাউড়া শহরে এক অনুষ্ঠানে একেএম সফি আহমদ সলমানের বিরুদ্ধে কামরুল ইসলামের দেয়া অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় কুলাউড়া শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমানের নেতৃত্বে সমর্থকদের এক বিশাল মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সেই মিছিল থেকে স্লোাগান দেয়া হয়, “কামরুলের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে। আয়রে কামরুল দেখে যা সলমান ভাইয়ের কাফেলা। কুলাউড়ার মাটি সলমান ভাইয়ের ঘাঁটি।”
মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে জড়ো হন।
আ.স.ম কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান বলেন- উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ৮৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আত্মসাতের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তনাধীন রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এর একটা সুরাহা হবে। সফি আহমদ সলমান বলেন, শহরের বৃহত্তম মিলিপ্লাজা মার্কেটে অতীতের ন্যায় এখনও ১৪ জন পার্টনার রয়েছে। কেউ বলতে পারবে না, আমি এখানকার জায়গা দখল করেছি। কিন্তু ওই মার্কেটে বীমা অফিসের নামে ৫ বছরের অফিস ভাড়া এখনও পরিশোধ করেন নাই আ.স.ম কামরুল
ইসলাম। ওই অফিসে হবিগঞ্জের একটি মেয়েকে নিয়োগ দিয়ে তার চরিত্র হরণ করেন তিনি। এর দায়ে তিনি ৬০ হাজার টাকা জরিমানাও পরিশোধ করেন। উপজেলা পরিষদে আরেক মহিলার চরিত্র হরণের দায়ে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা গুণেন তিনি। ওই বিষয়টি নিস্পত্তি করেন সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগম।
তিনি তার বক্তব্যে কুলাউড়াবাসীকে সাবধান করে দিয়ে বলেন, আপনারা এই লোক থেকে দুরে থাকবেন। আর আপনি যদি সংশোধন না হন তবে কুলাউড়ার মানুষ আপনাকে প্রতিহত করবে। কেননা, মুখে আওয়ামীলীগ আর অন্তরে বিষ লালন করে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে পারবেন না।
সফি আহমদ সলমান আরো বলেন- সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিশাল মনোনয়ন বাণিজ্য করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম কামরুল ইসলাম। এই মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে তিনি কুলাউড়ায় নোংরা রাজনীতি সৃষ্টি করলেন। সলমান বলেন- শেখ হাসিনার সরকার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতায় বিশ^াসী। গত আড়াই বছর থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছি।
আ.স.ম কামরুল ইসলামের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন- আমাকে নিয়ে কেন আপনার এত আতঙ্ক, এত ভয়? আমার বিরুদ্ধে কেন মিথ্যার এত অপবাদ তুলছেন। সফি আহমদ সলমান কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে সংশোধন হওয়ার আহবান জানান; নতুবা কুলাউড়ার মানুষ কোনদিন তাকে ছাড় দিবেনা বলেও হুসিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি তার বক্তব্যের পুরো সময় উপজেলা আওয়ামামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম কামরুল ইসলামের প্রতি ক্ষোভ ঝাড়েন। সফি আহমদ সলমান সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আব্দুল জব্বারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, গুনী এই পরিবারের কারো কাছ থেকে কুলাউড়ার মানুষ কোনদিন খারাপ কিছু আশা করেনা। তিনি তাকে (আ.স.ম কামরুল) সংশোধন হওয়ার আহবান জানান। তবে দুই নেতার এই উত্তপ্ত লড়াইয়ে অবশ্য দলের সভাপতি নীরব রয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :