
পঞ্চগড় প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম!
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে কর্মস্থলে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে একই জায়গা থাকার সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। ওই তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীর নাম সুমন আলী। তিনি গত ৩০ অক্টোবর ২০২০ সাল থেকে নাজির পদে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন । পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়া হতে বদলী হয়ে আসেন দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে।
সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সর্বোচ্চ ৩ বছর চাকুরি করার নিয়ম থাকলেও সুমন আলীর বিরুদ্ধে রয়েছে অন্য হিসেব। দীর্ঘ ৬ বছর একই কর্মস্থলে থাকার কারনে সরকারী চাকুরীবিধি অমান্য করে একই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করার কারনে তার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অভিযোগ।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৪০টি হাট চান্দিনার লাইসেন্সের অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। চান্দিনা লাইসেন্স দিতে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ইউএনও এবং ডিসির নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের অর্থ । তাদের কে টাকা না দিলে হাট চান্দিনার লাইসেন্স পাওয়া যাবেনা এমন অজুহাত দিয়েই নেয়া হয় টাকা। এগুলো সরজমিনে তদন্ত করলেই তথ্য পাওয়া যাবে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কারনে
তিনি অফিসে একক আদিপত্য বিস্তার করে রামরাজত্ব করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে অফিস চলেছে একটি বেপরোয়া সিন্ডিকেট । মুলত তিনি আসল ঘুষ বাণিজ্য মুল হুতা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভূল বুঝিয়ে অফিসে আসা ভুক্তভোগী সাধারন সেবা প্রার্থীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। তারপর করে দেন তাদের কাজ। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না বলে তারা জানান ভুক্তভোগীরা।
এক সময়ে নাজির সুমন আলী জমি খারিজের রিপোর্ট দিতেন। সে যাচাইকারীও ছিল। হাট বাজারের লাইসেন্স থেকে শুরু নেজারতের সকল কাজ করে থাকেন তিনি। তিনি আর্থিক বিষয়গুলোও দেখাশুনা করেন। নাজির সুমন আলীর অনিয়ম আর দূর্নীতির সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ পাওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামানকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। অদৃশ্য কারনে তার বদলীও হয়নি। এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে। সুমন আলীর বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নে। তাই আরো, বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
নাজির সুমন আলীর বক্তব্য জানার জন্য তার অফিসে গেলে তিনি জানান, আপনি কোন জায়গায় সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকা যাবেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়ম থাকলেও তো অনেক কিছুই হয়।
দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, সুমন আলীর বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ পান তাহলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। চলতি মাসের মধ্যেই এসিল্যান্ড যোগদান করবেন। তখন আর সিন্ডিকেট থাকবেনা। তিনি আরও বলেন, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় থাকার কোন বিধান নাই।
আপনার মতামত লিখুন :