নবীগঞ্জে এক লন্ডনী নিজ গৃহে পরবাসী, হামলার দায়ে গ্রেফতার ২


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৬, ২০২১, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন /
নবীগঞ্জে এক লন্ডনী নিজ গৃহে পরবাসী, হামলার দায়ে গ্রেফতার ২

নূরুজ্জামান ফারুকী, হবিগঞ্জ থেকে।।

নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বানিউন গ্রামের সেকুল ইসলাম (৬৪) নামের এক লন্ডন প্রবাসী নিজ গৃহে পরবাসী অবস্থায় অসহায়ের মতো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার বাড়িতেও তিনি নিরাপদ নন। একই গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের পুত্র সুহেল রানা ও তার,বোন জামাই ভাগনাসহ একদল পরসম্পদলোভী লোক তার মায়ের সম্পত্তি দখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের হলে গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে আমির উদ্দিন (৫৫) ও তার ছেলে জাবেদ আলম(৩০) নামের দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয়ভাবে ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বানিউন গ্রামের নাসির উদ্দিনের পুত্র লন্ডন প্রবাসী সেকুল ইসলাম গত ৪ নভেম্বর দেশে আসেন। দেশে ফিরে দেখতে পান তার বিভিন্ন সম্পত্তি বানিউন গ্রামের সোহেল রানা ও লালাপুর গ্রামের আমির উদ্দিন ওরপে জমির উদ্দিন ও তার ছেলে মেয়েরা আত্মসাতের চেষ্টা করছে। এ নিয়ে এলাকার বিভিন্ন মুরব্বিরা সমাধানের চেষ্টা করেন। এর মধ্যে গত ১৮ নভেম্বর রাত ৯ টার দিকে আমির উদ্দিন ওরপে জমির উদ্দিন ও তার ছেলে মেয়েরাসহ প্রায় ১৪/১৫ জন লোক পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে মৃত আমির উদ্দিনের পুত্র সোহেল রানার হুকুমে সকল লোকজন তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় জাবেদ আলম তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে সেকুল ইসলামকে কোপ মারতে চাইলে তিনি দৌড় দিতে গিয়ে মাটিতে পড়ে আঘাত পান। এ সময় নূর আলম, জানে আলম ও শায়েক আলম তাদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার হাতে পায়েসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত সহ জখম করে। তখন শোয়েব মিয়া, জুলেখা বেগম ও জুয়েব মিয়া সম্পতির লোভে থাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। তার চিৎকার শুনে জুবায়েল আহমদ ও এমদাদুল হক এগিয়ে আসলে সুহেল রানাসহ বেশ কয়েকজন বাঁশের লাঠি দিয়ে তাদেরকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে আহত করে। এক পর্যায়ে সোহেল রানা সেকুল ইসলামের সোকেচের ড্রয়ারে থাকা নগদ দুই লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় সবাই মিলে সেকুল ইসলামের ঘরের দরজা জানালাসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এতে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে। পরে তারা হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে সেকুল ইসলামসহ আহতরা নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য্য্ কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করান। পরদিন ১৯ নভেম্বর সেকুল ইসলাম বাদি হয়ে জগন্নাথপুর থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেলে অভিযুক্ত লালাপুর গ্রামের জয়ফর উল্লাহর পুত্র আমির উদ্দিন ওরপে জমির উদ্দিন ও তার ছেলে জাবেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে। গত রবিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোর্পদ করে পুলিশ।

লন্ডন প্রবাসী সেকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আমারা ৪ ভাই ও ১ বোন সকলেই লন্ডনে বসবাস করি। আমাদের ইনাতগঞ্জ বাজারের একটি দু’তলা দোকান ঘর ও প্রায় ২০ কেদার জমি সুহেল রানা অন্য মানুষের কাছে বন্ধক দিয়ে দিয়েছে। এখন সে আমাদের বসত ভিটাও দখল করতে চায়। তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।