জ্ঞানার্জন করতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই-কুলাউড়ায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন /
জ্ঞানার্জন করতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই-কুলাউড়ায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর

কুলাউড়া প্রতিনিধি

সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, বই কিনে কেউ কোনদিন দেউলিয়া হয়নি, তবে বই পড়ে জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা অগণিত। তিনি গতকাল বেলা ১১টায় কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব-২০২৬’ এর পাঠকের মাঝে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন। কুলাউড়াস্থ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, একটি ভালো বই-ই হচ্ছে মনের খোরাক জোগানোর অন্যতম উপায়। একটি ভালো বই ঘুমন্ত বিবেক জাগিয়ে তোলে। জীবনকে বিকশিত করতে হলে জ্ঞানার্জন করতে হয়। আর জ্ঞানার্জন করতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবীর যাবতীয় জ্ঞানের কথা বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে। নিজেকে এমনকি পৃথিবীকে জানতে হলে বই পড়তেই হবে।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. খুরশিদ উল্লাহর সভাপতিত্বে, বইপড়া উৎসবের সঞ্চালক ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. খালিক উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন, শিক্ষক ও লেখক এম.এস.আলী, তানভীর মাহতাব ফাহিম, রূপালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন, তামান্না আক্তার তান্নি। অতিথিবৃন্দ আদর্শ পাঠাগারের বইপড়া উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন জানান, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ২০১৯ সালে তিনি কুলাউড়া শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০টি বইপড়া উৎসবের আয়োজন করেন, যেখানে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পাঠক আনুষ্ঠানিকভাবে বই পড়ায় অংশ নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পাঠাগারের কোনো নিজস্ব তহবিল নেই। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাণুরাগী প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বই পড়ানোর উদ্যোগটি তিনি অব্যাহত রাখার অপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার দরুন এবারের আয়োজনে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ও অশিক্ষার্থী পাঠককে এবারের বইপড়া উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। যে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও বই সহযোগিতা পেলে এ আয়োজনটিকে আরও বেশি শিক্ষার্থীদের নাগালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।

উল্লেখ্য, একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত করে সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নির্দিষ্ট বই দেওয়া হয়। সে বই অংশগ্রহণকারী পাঠকরা ২০ দিন পড়ার সময় পান। তারপর সে বই থেকে জ্ঞানমূলক এক মার্কের প্রশ্নের ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। নির্ধারিত সেরা পাঠকদের বিভিন্ন পরিমাণে নগদ শিক্ষাবৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি বইপড়ায় অংশ নেওয়া সকল পাঠককে দুটি করে বই উপহার দেওয়া হয়।