
নুরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ থেকে
পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে হবিগঞ্জের পইল গ্রামে ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা শুরু হয়েছে। মেলার এ বছরের সবচেয়ে বড় মাছ আইড় মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০৭ বছর ধরে চলা মাছের মেলার প্রধান আকর্ষন হচ্ছে ছোট বড় সব ধরনের দেশি প্রজাতির মাছ। এছাড়াও শিশুদের খেলনা, কৃষি উপকরণ, শাক-সবজিও মেলায় স্থান পায়। শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলায় রাখা হয় নাগরদোলা, ট্রেনসহ নানান খেলার উপকরণ। তবে এবার বাহারি ধরনের মাছ ও হাজারো দর্শক ক্রেতার ভিড়ে পইলের মাছের মেলা সেজেছে নতুন রূপে।
মেলায় এ বছর প্রায় দেড়মন ওজনের সবচেয়ে বড় বাঘাইর মাছটি নিয়ে এসেছেন জেলার বাহুবল উপজেলার ভেড়াখাল গ্রামের বাসিন্দা মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, মাছটি তিনি কুশিয়ারা নদী থেকে ধরেছেন। মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে যদি উপযুক্ত দাম না পান তবে তিনি মাছটি বিক্রি করবেননা। ইতিমধ্যে মাছটির দাম ১ লাখ টাকার উপরে অনেকেই বলেছেন।
মেলার আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা মহরম আলী জানান, সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে তাদের। চাঁদাবাজি ও কোন ধরণের খারাপ কাজ যেন এখানে স্থান না পায় সে জন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য এ মাছের মেলা দেখে খুশি দর্শনার্থীরাও। তিনি বলেন, এ মেলা আমাদের ঐতিহ্য। মেলাকে ঘিরে আমাদের গ্রামে প্রতিটি বাড়িতে ঈদের আমেজ দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আত্মীয় স্বজনরা আসেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন আসেন মেলায় মাছ কিনতে। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বাগ্মী নেতা বিপিন পালের জন্মভূমি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রাম। এখানে ২ শতাধিক বছর ধরেই চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। প্রতি বছর পৌষ মাসের ৩০ তারিখ এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরই ১ দিনব্যাপী এ মেলা হলেও গত কয়েক বছর ধরে তা ২ দিনব্যাপী হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে ঐতিহাসিক মাছের মেলা। হবিগঞ্জ জেলা ছাড়াও মৌলবীবাজার, সিলেট, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নানা বয়সী লোকজন এ মেলায় অংশ নিতে দেখা যায়। জেলার হাওরের মাছ ছাড়াও এ মেলায় বিভিন্ন এলাকার মাছ নিয়ে পসড়া সাজান বিক্রতারা। চলে মাছ কেনার ধুম।
আপনার মতামত লিখুন :