
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: খাদেমুল ইসলাম!
পঞ্চগড়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ রুবীনা খাতুন (৩২) নামে এক নারী পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ৯ জানুয়ারি বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার ডক্টর আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোহেল রানার হাতে তুলে দেন কেন্দ্র সচিব। পরে তিনি আটক পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
আটক রুবীন পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের দফাদার পাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী। আটকের সময় সঙ্গে তার তিন বছর বয়সী একটি শিশু সন্তান ছিল।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলা শহরের ২০টি কেন্দ্রে একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বিকেল তিনটায় শুরু হয়। এই সময়ে ডক্টর আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়ার সময় অপর এক পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে জানতে পেরে কক্ষ পরিদর্শক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ সহ অধ্যক্ষের রুমে নেয়। পরে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে খবর দেয়া হয়। আটকের পর তার কান থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। পরে কেন্দ্র সচিব ওই নারী পরীক্ষার্থীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তুলে দেন।
কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান সুমন ও মনরঞ্জন কুমার বলেন, পরীক্ষার সময় পাশের এক পরীক্ষার্থী বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের জানায়। পরে তার কাছে জানতে চাইলে অস্বীকার করলে, তাকে অফিসে নেয়া হয়ে। পরে প্রশাসন ও পুলিশ এসে তার কাছ থেকে ডিভাইসটি উদ্ধার করে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ‘পরীক্ষার হল পরিদর্শক দুইজন ৬নং কক্ষে তাকে শনাক্ত করে। ঘটনার পর ডিভাইসটি জব্দ করা হয়েছে। এবং এটি ভ্রাম্যমান আদালতের আওতায় না থাকায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আটকের পরেই ওই পরীক্ষার্থীর বাবা তার পরীক্ষার্থীর ছোট মেয়েকে রুবীনার কাছে দিয়ে চলে যায়। যেহেতু শিশুটি তার মায়ের সাথে রয়েছে তাই- আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ শিশুটির বিষয়ে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, থানায় নিয়ে সেটার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
জানা গেছে, এবার ১৭১ টি পদের বিপরীতে ২০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার ৮১০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। তবে ৮ হাজার ৭৮১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন পরীক্ষায়। আর অনুপস্থিত ছিলেন ২হাজার ২৯ জন। উপস্থিতির হার ৮১.২৩ শতাংশ।
আপনার মতামত লিখুন :