আমি অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রমাণ হলে পদত্যাগ করব-জি কে গউছ
দ্যা সিলেট পোস্ট
প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১০, ২০২৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ন /
০ Views
নূরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ থেকে ॥
জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন, ‘আমি মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি-এক টাকা নিজে চুরি করব না, কোনো চোরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করব না। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন, আমি এক টাকার কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করব।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি-আমি অন্তরে যা বিশ্বাস করি, মুখে তাই বলি। গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে কোনো অনৈতিক কাজকে সমর্থন করি না। তিনবার মেয়র ছিলাম। শত শত কোটি টাকার চেকে স্বাক্ষর করেছি, উন্নয়ন কাজ করেছি। ফ্যাসিস্ট সরকার আমার বিরুদ্ধে শতাধিক মিথ্যা মামলা দিয়েছে। কিন্তু কোনো দুর্নীতির মামলা দিতে পারেনি।’
রবিবার (৯ আগষ্ট)সকাল ১০টায় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। হুইপ জি কে গউছ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হবিগঞ্জে কারা অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তার সঠিক তালিকা করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যেন বিবেচনায় নেওয়া না হয়। অপরাধী কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হতে পারে না, একইভাবে কোনো ভালো মানুষের বন্ধু হতে পারে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
হবিগঞ্জে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা অনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদের পরিচয় প্রকাশের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। হুইপ বলেন, ‘কোনো দুষ্ট লোকের সঙ্গে আমার বা আমার দলের সম্পর্ক নেই। আপনারা প্রকৃত সত্য প্রকাশ করুন। যারা মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাদের মুখে চুনকালি দেওয়ার জন্য সত্যের বিকল্প নেই।’ খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়েও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন হুইপ।
তিনি বলেন, ‘খোয়াই নদীর আমার নির্বাচনী এলাকার অংশ থেকে বালু উত্তোলনে কোনো টেন্ডার হয়েছে কি না, জেলা প্রশাসক কোনো অনুমোদন দিয়েছেন কি না, তা আমি জানি না। যদি কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। আর অনুমোদন না থাকলে খোয়াই নদী থেকে এক ঘনফুট বালুও যেন উত্তোলন করতে না পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে ভিন্ন মত ও ভিন্ন পথ না থাকলে গণতন্ত্রের কোনো সৌন্দর্য থাকে না। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে ভিন্ন মত ও ভিন্ন পথকে ধারণ করা। তবে যারা বেফাঁস কথাবার্তা বলেন, তাদেরও বোঝা উচিত মানুষ তাদের সম্পর্কে কী ভাবছে। তাদের কথায় মানুষ আমাদের ভোট দেয়নি, ভবিষ্যতেও তাদের কথায় মানুষ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে না। আমরা তাদের প্রতিপক্ষ মনে করি না। রাজনৈতিক পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
সিএনজি স্ট্যান্ডের দখল ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘সিএনজি স্ট্যান্ড কারা দখল করেছে, তাদের নাম জানতে চাই। আগে যারা দখল করেছিল তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল। এখন যারা দখল করেছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও জানতে চাই। যারা সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করে, তারা সমাজের ভালো মানুষ হতে পারে না তারা অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের পেছনে যারা জড়িত, তাদের নাম প্রকাশ করতে কোনো সমস্যা থাকলে গোপনীয় প্রতিবেদনে তাদের নাম উল্লেখ করা হোক।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কাজের মানুষ। শুধু আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। আমি দৃশ্যমান কাজ দেখতে চাই। শহরের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে হলে সিসি ক্যামেরার বিকল্প নেই। শহরের প্রতিটি সড়ক ও পাড়া-মহল্লার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, চুরি-ছিনতাই বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হুইপ বলেন, ‘হবিগঞ্জ থেকে ১০-১২টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদপত্রে কখনো কখনো অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশিত হয়, এতে পাঠক বিভ্রান্ত হন। আমি অনুরোধ করব, সংবাদ যেন তথ্যনির্ভর ও সত্য হয়। এতে সংবাদপত্র তথা সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। জনসম্মুখে সত্য তুলে ধরাই সাংবাদিকদের কাজ। কাজটি যত কঠিনই হোক, সত্য প্রকাশ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ, পিপি এডভোকেট আব্দুল হাই, সদর হাসপাতালের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য সচিব আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাজী নুরুল ইসলাম, এডভোকেট ফাতেমা ইয়াসমিন, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান, সাংবাদিক মোহাম্মদ নাহিজ, শোয়েব চৌধুরী। সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :