মহাবিশ্বের সীমানায়: এক অসীম বিস্ময়: একটি কাল্পনিক গল্প।।


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : মার্চ ২, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ন /
মহাবিশ্বের সীমানায়: এক অসীম বিস্ময়:  একটি কাল্পনিক গল্প।।

হাবিবুর রহমান হাবিব শাল্লা, সুনামগঞ্জ।

​মহাবিশ্বে আমরা কি একা? নাকি নক্ষত্ররাজির ওপারে বইছে অন্য কোনো প্রাণের স্পন্দন? মানবজাতির এই চিরন্তন কৌতূহল আজ বিজ্ঞানের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বাসের দরজায় কড়া নাড়ছে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান যখন ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ বা ভিনগ্রহের প্রাণের খোঁজে মরিয়া, পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো তখন আমাদের সামনে উন্মোচন করছে ১৪০০ বছর আগের এক বিস্ময়কর মানচিত্র।

​সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার এক স্নিগ্ধ সকাল। তরুণ গবেষক আরাফাত রহমান প্রিন্স এবং তার বোন জেরিন এক গভীর আলোচনায় মগ্ন। তাদের ভাবনার কেন্দ্রে সেই চিরচেনা প্রশ্ন— “আমরা কি এই বিশাল মহাজগতে নিঃসঙ্গ?”

​জেরিন ল্যাপটপে নাসার পাঠানো একটি নীল গ্রহের ছবি দেখিয়ে বলল, “ভাইয়া, পৃথিবী থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরের এই গ্রহে পানির অস্তিত্ব থাকতে পারে। তবে কি সেখানেও প্রাণ আছে?” আরাফাত মুচকি হেসে পবিত্র কোরআন থেকে সূরা শুরা-র ২৯ নম্বর আয়াতটি পাঠ করল:

​”আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন হলো নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সৃষ্টি এবং এতদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু (দা-ব্বাহ) ছড়িয়ে দিয়েছেন…”

​আরাফাত ব্যাখ্যা করল, “এখানে ‘দা-ব্বাহ’ শব্দটি দিয়ে এমন প্রাণীকে বোঝায় যা বিচরণ করে। আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—এই প্রাণীরা আসমান ও জমিনের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, পৃথিবীর বাইরেও প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত।” সে আরও মনে করিয়ে দিল সূরা ফাতিহার ‘রাব্বিল আলামিন’ শব্দটির কথা, যার অর্থ অগণিত জগতের পালনকর্তা।

​জেরিন প্রশ্ন করল মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও প্রসারণ নিয়ে। আরাফাত সূরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াত দেখিয়ে বলল, “বিজ্ঞানীরা আজ ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্ফোরণের কথা বলছেন, অথচ কোরআন অনেক আগেই বলেছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল, পরে পৃথক করা হয়েছে। এমনকি সূরা যারিয়াতের ৪৭ নম্বর আয়াতে মহাবিশ্বের প্রসারণের কথাও স্পষ্ট বলা হয়েছে।”

​আরাফাতের কথায় জেরিন কল্পনার জগতে হারিয়ে গেল। সে যেন দেখতে পেল ২১৫০ সালের দৃশ্য—ক্যাপ্টেন জায়ান নামক এক মহাকাশচারী পা রাখছেন ‘কেপলার-১৮৬এফ’ গ্রহে। সেখানে বেগুনি আকাশের নিচে একদল অপার্থিব সুন্দর প্রাণী স্রষ্টার মহিমা গানে মগ্ন। জায়ান সিজদায় লুটিয়ে পড়ে বললেন, “হে আল্লাহ! আপনার রাজত্ব কত অসীম!”

​জেরিনের ঘোর কাটল। সে বুঝতে পারল, বিজ্ঞান হয়তো একদিন ভিনগ্রহের প্রাণের সন্ধান পাবে, কিন্তু মুমিনদের কাছে সেটি হবে কোরআনের আরেকটি অলৌকিক সত্যের বিজয়। আরাফাত পরম যত্নে কোরআনটি বন্ধ করে বলল, “বিজ্ঞান আজ যা খুঁজছে, কোরআন তার নকশা বহু আগেই দিয়ে রেখেছে।”

​জানালার বাইরে শাল্লার আকাশে তখন সোনালি রোদ। মহাবিশ্বের প্রতিটি নক্ষত্র যেন চিৎকার করে সেই এক মহান স্রষ্টার মহিমা ঘোষণা করছে।