
স্টাফ রিপোর্টার।।
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে যুবতী গণধর্ষণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। গত ২৯ এপ্রিল এ বিষয়ে অতি গোপনে সরজমিন অনুসন্ধান করা হয়। বানিয়াচং উপজেলার ৫ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের তেলঘড়ি গ্রামে ঘটনাস্থল কৃষ্ণধন বৈষ্ণব এর বাড়ী যাই। মার্কুলী টু পাহাড়পুর সড়কের দক্ষিণে পার্শ্বে কৃষ্ণধনের বাড়ী। বাড়ীর পশ্চিমে আখড়া, দক্ষিণে ধানী জমি, পূর্বে ধানী জমি।কৃষ্ণধনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। দেখা হয় তার পিতা হরকৃষ্ণ বৈষ্ণব, বৌদি মিলন রাণী, স্ত্রী ও কন্যা কেয়া বৈষ্ণবের সাথে। কেয়া ও মিলন রাণী জানান, ১৫ দিন পূর্বে মার্কুলী বাজারে তাদের বিউটি পার্লারে ৩ হাজার টাকা মাসে কর্মচারী হিসেবে রুবী নামে মেয়েটি চাকুরী নেয়। থাকে তাদের বাড়ীতে। বাড়ীতে কৃষ্ণধনের একটি মাত্র ঘর। তারা শুধুই মেয়েটির নাম জানে কিন্তু ঠিকানা জানেন না বলে জানান।

শতভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের এলাকায় একটি মুসলিম মেয়ে তাদের বসত ঘরে থাকে এবং ঠিকানা বিহীন এ প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি।তাহা রহস্যজনক? কৃষ্ণধন আসামী বা বাদী ও না তবে পলাতক কেন? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। কৃষ্ণধনের মুঠোফোনে কল দিলে রিসিভ করেননি। তার স্ত্রী ফোনে বলার পর কৃষ্ণধন ফোনে জানান তিনি চুনারুঘাট অবস্থান করছেন। তিনি পালিয়ে গেলেন কেন এ প্রশ্নের সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি। তবে তিনি রুবী আক্তারের বাড়ি হবিগঞ্জের নিজামপুর বলে জানান। তা রহস্যই রয়ে গেল। এর পর গ্রামের সুশীল বৈষ্ণবের সাথে কথা হয়। সুশীল বৈষ্ণব জানান ১৮ ই এপ্রিল দিবাগত রাত ১২ ঘটিকার সময় তিনি হট্টগোল শুনে বাড়ী থেকে বেরিয়ে আখড়ায় আসেন। এবং দেখতে পান ৫০/৬০ জন গ্রামবাসী কৃষ্ণধনের বাড়ীতে আছে। তিনি গিয়ে দেখেন একটি মেয়ে বাড়ীর পূর্বে ধানী জমি দিয়ে দৌড়ে যায়। পিছনে ১০ থেকে ১২ জন গ্রামবাসী থাকে আটক করে। তিনি জানতে চাইলে তারা জানায় মেয়েটি কয়েক দিন যাবৎ অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত। সুশীল বৈষ্ণব সাথে সাথে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুঞ্জুকুমার দাশ গুপ্তকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। চেয়ারম্যান মেয়েটিকে রামকৃষ্ণ গোস্বামীর আখড়ায় নিয়ে আসার জন্য বলেন। তারা মেয়েটিকে আখড়ায় নিয়ে আসার পরই চেয়ারম্যান আসেন। সুশীল বৈষ্ণবের সাথে আলাপচারিতার সময় আসেন গ্রামের সাবেক মেম্বার হিমাংশু বৈষ্ণব, বিশিষ্ট মুরব্বি ক্ষিতীশ বৈষ্ণব, বিন্দু বৈষ্ণব, নিতাই বৈষ্ণব, ঝন্টু বৈষ্ণব ও জয়মনি বৈষ্ণব। তাদের বক্তব্যে একই কথা জানা যায়। তারা জানান চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক মটর সাইকেলে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় গ্রামের দুশতাধীক লোক উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যান কৃষ্ণধনকে আসার জন্য লোক পাঠান। কৃষ্ণধন তার ভাই আশু বৈষ্ণব ও তাদের পিতা হরকিশোর বৈষ্ণব আসেন। মেয়েটি চেয়ারম্যান এর নিকট তার জবানবন্দি প্রদান করেন। চেয়ারম্যান জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।
জবানবন্দিতে মেয়েটি জানায়,তার নাম রুবী আক্তার, পিতা – আব্দুল কদ্দূছ,গ্রাম- মোহনপুর, গোপায়া ইউনিয়ন, হবিগঞ্জ সদর। লিখিত বক্তব্যে রুবী আক্তার জানালেন, কৃষ্ণধনের বিউটি পার্লারে চাকুরী নেই। কিন্তু কৃষ্ণধন আমাকে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার প্ররোচনা দেয়। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত আছি। লিখিত বক্তব্যে রুবী আক্তার ও কৃষ্ণধন স্বাক্ষর করেন। সাক্ষী গ্রামের উপস্থিত লোকজন। কৃষ্ণধনের ভাই আশু বৈষ্ণব লিখিত স্বীকারোক্তি দেন যে,তার ভাই কৃষ্ণধন দীর্ঘদিন যাবৎ অনৈতিক কাজে জড়িত। পরে গ্রাম বাসীর মতামত নিয়ে কৃষ্ণধনের পিতা হরকিশোর বৈষ্ণব এর নিকট রুবী আক্তার কে হস্তান্তর করা হয় সকালে রুবী আক্তারের বাড়ীতে পৌছিয়ে দেওয়ার জন্য। এখানে কথা শেষ করে এর পর চলে আসি মার্কুলী বাজারে। প্রবেশ মূখেই ডান দিকে বিউটি পার্লার একটি বিউটি পার্লারের দুটি সাইন বোর্ড। সামনে ইজিবাইক ষ্ট্যান্ড। ১০/১২ টি ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে কথা হয়। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তারা জানান দেড় বছর পূর্বে বিউটি পার্লার দেওয়া হয়। ১৫/২০ দিন পর পর মহিলা কর্মচারী বদল হয়। তবে পার্লারে কোন কাষ্টমার প্রবেশ করতে দেখেনি। সামনের ব্যবসায়ীদের ও একই বক্তব্য। আলাপ হয় মার্কুলী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোছাব্বির মিয়ার সাথে, তিনি বলেন গ্রাম্য বাজার সারা বছরে ও বাজারে মহিলা আসে না। বিউটি পার্লার চলবে কি ভাবে। এ নিয়ে কৃষ্ণধনকে বার বার সতর্ক করেছি। পরে দেখা হয় চেয়ারম্যান মুঞ্জু কুমার দাশ গুপ্তের সাথে। তিনি বলেন,১৮ ই এপ্রিল দিবাগত রাত অনুমান ১২. ৩০ ঘটিকায় সুশীল বৈষ্ণব ফোন দিয়ে তেলঘড়ি ঘটনা জানান। তখন আকাশে বিদ্যুৎ চমকে উঠে বার বার। তবু বিষয়টির গুরুতর হওয়ায় তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। যাওয়ার পূর্বে আখড়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেই। তিনি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেছেন উপরোক্ত বিবরণের মতো। এবং তাদের লিখিত স্বীকারোক্তির ফটোকপি যা চেয়ারম্যান কর্তৃক সত্যায়িত। চেয়ারম্যান জানান,আমার নিকট রুবী আক্তারের দেওয়া ঠিকানা ভূয়া। একজন চেয়ারম্যান হিসেবে সঠিক ঠিকানা দেওয়া প্রয়োজন ছিল। ভূয়া ঠিকানা দেওয়া তা রহস্যজনক। তিনি আর ও জানান, ঘটনার পর রহস্য বেরিয়ে এসেছে। পার্লারের নামে রহস্যজনক ব্যবসা।
চেয়ারম্যান জানান,মেয়েটিকে তার পিত্রালয়ে না পৌছিয়ে কৃষ্ণধন বানিয়াচং সদর ও হবিগঞ্জ গিয়ে পতিতাবৃত্তিকে ধামাচাপা দিতে গণ ধর্ষণের নাটক সাজায়। এর পর আবার তেলঘড়ি গ্রামে এসে কথা হয় ৩০/৩৫ জনের সাথে সবার নাম লিপিবদ্ধ করি। তারা বলেন কৃষ্ণধন নষ্ট মানুষ। ইতিপূর্বে মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে হাজত খেটেছে। পাশ্ববর্তী গ্রাম কবির পুর ও হিলাল নগর এখানে শতভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। সবার একই প্রশ্ন,একটি মুসলিম মহিলা একঘরে থাকবে এলাকাবাসী জানে না। এবং প্রায়ই পার্লারের নামে মহিলা কর্মচারী বদল করা হয়। তার রহস্য উন্মোচন প্রয়োজন। যুবতী গণধর্ষণ নিয়ে পূর্বে দ্য সিলেট পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল।
আপনার মতামত লিখুন :