
হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংবাদিক ও কলামিস্ট,
শাল্লা-সুনামগঞ্জ।।
মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনেক সময় ভঙ্গ হয়, কিন্তু মহান রবের দেওয়া ওয়াদা অটল এবং শাশ্বত। বর্তমানের এই যান্ত্রিক ও অস্থির পৃথিবীতে আমরা যখন প্রতিনিয়ত অভাব, অনটন আর মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাই, তখন পবিত্র কুরআনের চারটি আয়াত আমাদের জন্য পরম আশার আলো হয়ে দাঁড়ায়। যেন উত্তাল হাওরের বুকে দিশেহারা কোনো মাঝির সামনে এক উজ্জ্বল বাতিঘর।
এই চিরন্তন সত্যগুলো কেবল আধ্যাত্মিক বাণী নয়, বরং আমাদের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনার ৪টি শক্তিশালী গ্যারান্টি:
১. স্মরণ (সূরা বাকারা: ১৫২): আল্লাহ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, আমরা যদি তাঁকে স্মরণ করি, তবে তিনিও আমাদের স্মরণ করবেন। এই ‘স্মরণ’ আমাদের একাকীত্ব দূর করে এবং বিপদে অবিচল থাকার শক্তি দেয়।
২. প্রার্থনা (সূরা গাফির: ৬০): দোয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের সমস্ত অভাব ও অভিযোগ সরাসরি তাঁর কাছে পেশ করতে পারি। তিনি নিজেই দায়িত্ব নিয়েছেন আমাদের ডাকে সাড়া দেওয়ার। তাই মুমিনের অভিধানে ‘হতাশা’ বলে কিছু নেই।
৩. কৃতজ্ঞতা (সূরা ইব্রাহিম: ৭): জীবনের ছোট ছোট প্রাপ্তির জন্য স্রষ্টার শুকরিয়া আদায় করলে তিনি আমাদের অর্জনে ও সম্পদে বরকত বাড়িয়ে দেন। কৃতজ্ঞতা জীবনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে শেখায়।
৪. ক্ষমা (সূরা আনফাল: ৩৩): মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভুলের জন্য ক্ষমা বা ইস্তেগফার আমাদের যেকোনো মানসিক গ্লানি বা আজাব থেকে মুক্তি দেয়। এটি আমাদের জন্য এক অদৃশ্য সুরক্ষাকবচ।
আসুন, বালুর ওপর ভিত্তি না গড়ে আমরা সত্য ও ন্যায়ের কঠিন পাথরের ওপর আমাদের জীবনের ভিত্তি স্থাপন করি। এই ৪টি ঐশ্বরিক প্রতিশ্রুতি হোক আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের চলার পথের দিশারি।
আপনার মতামত লিখুন :