​কলম: শাশ্বত এক বিপ্লবের নাম


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : মার্চ ২৯, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন /
​কলম: শাশ্বত এক বিপ্লবের নাম

​​হাবিবুর রহমান হাবিব

​মানুষের অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে যে শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার, সেটি হলো ‘কলম’। আদিম গুহাচিত্র থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল ট্যাবলেট পর্যন্ত মানুষের চিন্তার প্রসারে কলমের ভূমিকা অনন্য। কলম কেবল একটি লেখার সরঞ্জাম নয়; এটি একটি জাতির বিবেক, শাশ্বত এক বিপ্লবের নাম এবং পরিবর্তনের অগ্রদূত।

​ইসলামের সুমহান ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন সৃষ্টির শুরুতে বিশ্বজগতের তাকদির ও পরিকল্পনা লিখে রাখার জন্য সর্বপ্রথম এই অনন্য সরঞ্জামটি সৃষ্টি করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন, তা হলো কলম। তারপর তাকে বললেন—লেখো। কলম বলল—হে আমার প্রতিপালক, আমি কী লিখব? তিনি বললেন—কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে, সব কিছুর তাকদির লেখো।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)। এই অমিয় সৃষ্টিরহস্য প্রমাণ করে যে, কলমের মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিকতা শাশ্বত এবং চিরন্তন।

​একটি তলোয়ার হয়তো একজন মানুষের শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করতে পারে, কিন্তু একটি শক্তিশালী কলম বদলে দিতে পারে কোটি মানুষের চিন্তা ও আদর্শ। ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই কোনো সমাজে অন্যায় বা অবিচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখনই কোনো এক সাহসী লেখকের কলম গর্জে উঠেছে। সেই কালির সুতীক্ষ্ণ আঁচড় ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে স্বৈরাচারের দম্ভ ও অন্ধকারের দেয়াল।

​কলম দিয়ে লেখা প্রতিটি বর্ণ আসলে একেকটি আলোকবর্তিকা। এটি যেমন ব্যক্তিগত ডায়েরিতে মানুষের মনের অব্যক্ত কথা ফুটিয়ে তোলে, তেমনি সংবাদপত্রের পাতায় তুলে ধরে সমাজের রূঢ় বাস্তব চিত্র। একজন প্রকৃত লেখকের কাছে তার কলম হলো তার সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কলমের কালি যখন কাগজে মিশে যায়, তখন সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখায়।

​বর্তমান ডিজিটাল যুগে টাইপিংয়ের দাপট থাকলেও, কাগজের ওপর কলমের আঁচড়ের যে আবেগ ও গভীরতা, তার তুলনা অন্য কিছুতে মেলা ভার। একটি কলম যখন সততা ও ন্যায়ের পথে চলে, তখন সেটি হয়ে ওঠে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি। তাই কলমকে সম্মান জানানো মানেই হলো জ্ঞান এবং সত্যকে সম্মান জানানো। একটি আদর্শনিষ্ঠ কলমই পারে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণ করতে।

​লেখক পরিচিতি:

হাবিবুর রহমান হাবিব

সাংবাদিক ও কলামিস্ট, শাল্লা, সুনামগঞ্জ।