
নূরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
শাকসবজি এবং ধানের জমির পাশাপাশি দু’টি জমিতে ফুটেছে নোমুগ্ধকর সারি সারি সূর্যমুখী ফুল। আর সেই ফুলের মধু আহরণে বাগানে জড়ো হয় মৌমাছির দল। প্রায় প্রতিটি ফুলেই দেখা গেছে মৌমাছির মধু আহরণের দৃশ্য। বসন্তের মৃদু হাওয়ায় দুলছে সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় ঘুরিয়ে থাকা এই সূর্যমুখী ফুল গাছ। যেন পুরো মাঠ সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে প্রাণ খুলে। কোনো কোনো ফুল আবার যেন মাথা কিছুটা নিচু করে কুর্নিশ করে স্বাগত জানাচ্ছে পর্যটকদের।
সূর্যমুখী ফুল শুধু দেখতেই সন্দর নয়, গুণেও অনন্য। সূর্যমুখী ফুল থেকে আহরণ করা হয় দানা। যা অনেকটা সরিষার দানার মতই। তবে সূর্যমুখীর দানা সরিষার দানার চেয়ে আকারে কিছুটা বড় হয়ে থাকে। এই দানা থেকে তৈরী হয় তেল। সূর্যমুখী তেলের পুষ্টি উপাদান ও গুণাগুণ অনেক বেশি। সূর্যমুখী তেলে নেই কোনো কোলেস্টেরল। এই তেল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
আর এই সূর্যমুখী ফুল চাষ করেছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের নন্দীপাড়া মহল্লার এহিয়া রেজা। মেসার্স সবুজ বাংলা এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্তাধিকারি এহিয়া রেজা এই বছর প্রথমবারের মত আবাদ করেছেন সূর্যমুখী ফুল। প্রথমবার চাষেই সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। আর তাইতো সারাদিন সূর্যমুখী গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন এহিয়া রেজা।
এহিয়া রেজার সাথে কথা বলে জানা যায়, নিজস্ব দুই ধানি জমিতে এবার সূর্যমুখী চাষ করেছেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী গত নভেম্বর/ডিসেম্বরে বীজ রোপন করার কথা থাকলেও তিনি রোপন করেছেন জানুয়ারি মাসে। বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া বীজ রোপন করেন তিনি। ইতিমধ্যে গাছে ফুল ধরেছে। একটি পরিণত সূর্যমুখী ফুলের গাছ ৯০ থেকে ১১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। সূর্যমুখী ফুল চাষের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যেই বীজ সংগ্রহ করা যায়। এই ফুলচাষ থেকে বিপুল আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন এহিয়া রেজা।
এহিয়া রেজা আরও জানান, সানফ্লাওয়ার ডিস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী ফুল চাষ করেছেন তিনি। বানিয়াচং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। তাছাড়া কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষন করছেন।
বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুল হক জানান, বানিয়াচংয়ে তিন বছর যাবৎ সূর্যমুখী ফুলের চাষ হচ্ছে। তেল জাতীয় এ ফসল উৎপাদনে সফলতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এবছর বানিয়াচংয়ে অন্যান্য কৃষকের পাশাপাশি এহিয়া রেজাও সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি খুব ভালভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছেন।
তিনি আরও জানান, অনেক দূরদূরান্ত থেকে কৃষকরা আসছেন পরামর্শ নিতে। আমাদের সহায়তায় বানিয়াচংয়ে আরও কিছু জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ কোলেস্টেরল মুক্ত সূর্যমুখী তেল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। সূর্যমুখীর তেল ছাড়াও খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর কোনো অংশই ফেলার মতো নয়।
উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় সূর্যমুখী ফুলচাষে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। মূলত অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি বানিয়াচংয়ের কৃষকদেরকে অধিক মুনাফা লাভের আওতায় নিয়ে আসা কৃষি অফিসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক।
এদিকে দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী ফুলবাগান পরিদর্শনে আসছেন শত শত স্থানীয় পর্যটক। অনেকেই প্রিয়জনদের নিয়ে বৈকালিক ভ্রমণে এহিয়া রেজার সূর্যমুখী ফুলবাগানে ভিড় করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :