হবিগঞ্জ-৪ আসনে লড়াই হবে ত্রিমূখী


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন /
হবিগঞ্জ-৪ আসনে  লড়াই হবে  ত্রিমূখী

নুরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে,ততই জটিল হয়ে উঠছে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ। পাঁচ লক্ষাধিক ভোটারের এই আসনে এবার লড়াই আর একমুখী নয়; বরং স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে এক ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রকাশ্য মাঠের রাজনীতি, নীরব ভোট ব্যাংক এবং অদৃশ্য সমর্থনের হিসাব মিলিয়ে আসনটি এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজরে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। সংগঠনের ওপর প্রভাব, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয় উপস্থিতি তাকে শুরু থেকেই এগিয়ে রেখেছে। চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং সহানুভূতিশীল ভূমিকা তার জন্য একটি বাস্তব ভোট ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন অনেকটাই কাটিয়ে ফয়সলের নেতৃত্বে দল মাঠে তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ। মামলা ও হয়রানিমুক্ত রাজনীতির প্রতিশ্রুতি এবং সরাসরি ভোটার সংযোগের কৌশল তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অতীতই যেমন শক্তি, তেমনি কিছু ভোটারের কাছে সেটি প্রশ্নের কারণও হতে পারে।

এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নির্বাচনী মাঠে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তার সমাবেশে তরুণদের উপস্থিতি এবং বক্তব্যে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন উঠে আসায় একটি ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা ছড়াচ্ছে।

তাহেরীর শক্তি মূলত দৃশ্যমানের চেয়ে অদৃশ্য। ধর্মীয় আবেগপ্রবণ ভোটার, চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশের নীরব সমর্থন তাকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ধারণা রয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট এবং প্রবাসী রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের কিছু সমর্থনও তার দিকে ঝুঁকতে পারে। বিশেষ করে চুনারুঘাট উপজেলায় তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ত্রিমুখী লড়াইয়ের তৃতীয় মাত্রা ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ আব্দুল কাদের। প্রচারে তুলনামূলক নীরব থাকলেও সংগঠিত ধর্মভিত্তিক ভোট, স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং জোট রাজনীতির সমর্থন তাকে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে সামনে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তার প্রাপ্ত ভোট অন্য দুই প্রার্থীর ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এই আসনের ফলাফল নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের জনসেন্টিমেন্ট, নীরব ভোটারদের সিদ্ধান্ত ও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতির ওপর। একদিকে অভিজ্ঞতা ও সংগঠনের জোর, অন্যদিকে ধর্মীয় আবেগ ও নীরব সমর্থনের সংঘাতে ফলাফল যে অনিশ্চিত—তা বলাই বাহুল্য।

সব মিলিয়ে, হবিগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচন এবার শুধু একজন বিজয়ীর গল্প নয়; এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক প্রবণতা, নীরব ভোট এবং নতুন সমীকরণের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র। ফল যাই হোক, এই আসনের রায় ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে যাবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।