
লিখেছেন: হাবিবুর রহমান হাবিব
(লেখক ও সাংবাদিক, শাল্লা, সুনামগঞ্জ)
অনাদিকাল আগে যখন সময়ের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, তখন না ছিল নীল আসমান, না ছিল আমাদের এই শস্যশ্যামলা জমিন। মহাবিশ্বের যাবতীয় উপাদান তখন বন্দি ছিল একটি অতি ক্ষুদ্র ও প্রচণ্ড উত্তপ্ত বিন্দুতে। আজ থেকে প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর আগে এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে শুরু হয় সৃষ্টির মহোৎসব।
বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে আমরা ‘বিগ ব্যাং’ (Big Bang) বলি, সেই ক্ষণেই জন্ম নেয় আমাদের এই অসীম আকাশ বা আসমান। উত্তাল আগুনের সমুদ্র থেকে ধোঁয়া আর গ্যাসের মেঘ ঘনীভূত হয়ে তৈরি হয় নক্ষত্রপুঞ্জ। কিন্তু আমাদের প্রিয় এই পৃথিবী বা জমিন তখনো ছিল নিছক মহাজাগতিক ধূলিকণা।
আসমান ও জমিন এক সময় একীভূত থাকলেও মহাকর্ষের অমোঘ টানে তারা পৃথক হতে শুরু করে। আজ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে সূর্যের চারদিকের অবশিষ্ট ধূলিকণা আর পাথরখণ্ড জমাট বেঁধে জন্ম নেয় পৃথিবী। পৃথিবী তখন এক জ্বলন্ত আগুনের গোলক। আসমানের বিশালতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জমিন যেন একাকী হয়ে পড়েছিল।
কিন্তু এই বিচ্ছেদ ছিল চিরস্থায়ী বন্ধুত্বের সূচনা। আসমান উপর থেকে বৃষ্টির শীতল পরশ আর সূর্যের আলো দিয়ে আগলে রাখল জমিনকে। আর জমিন সেই দান গ্রহণ করে তার বুক চিরে জন্ম দিল সবুজ অরণ্য ও প্রাণের স্পন্দন। পবিত্র গ্রন্থগুলোতেও এই রহস্যময় বিচ্ছেদের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে আসমান ও জমিন একসময় মিশে ছিল, পরে তাদের পৃথক করা হয়েছে।
বিশাল এই মহাকাশ বা আসমানের তুলনায় আমাদের এই জমিন হয়তো বিন্দুসম, কিন্তু এদের এই বিচ্ছেদ আর মিতালিই মহাবিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর গল্প।
সারসংক্ষেপ: মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং আসমান ও জমিন পৃথক হওয়ার বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধ।
আপনার মতামত লিখুন :