
নজরুল ইসলাম||
বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক বা ইনক্লুসিভ ইলেকশন (Inclusive Election) না হওয়া এটি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
যখন কোনো নির্বাচনে সব প্রধান দল অংশ নেয় না বা সাধারণ মানুষের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটে না, তখন সাধারণত নিচের সমস্যাগুলো দেখা দেয় যা বিগত দিনগুলোতে দেশের মানুষ মোকাবেলা করেছে। ২০২৪ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে আওয়ামী লীগের ভোটের হার ছিল প্রায় ৪১.৮%, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকের মত ভোটারকে নির্বাচনের বাইরে রেখে এই ইলেকশনকে আমরা ইনক্লুসিভ ইলেকশন বলতে পারি কি? যে ভুল শুধরানোর জন্য এত মানুষের প্রাণ গেল একই ভুলের পুনরাবৃত্তি জনমনে উদ্যোগ কোনটা রয়েই গেল।
চাপাচাপি করে নির্বাচন সম্পন্ন স্থায়ী সমাধান নয। একটি বড় রাজনৈতিক পক্ষ যদি নির্বাচনের বাইরে থাকে,তারা রাজপথে দাবি আদায়ের চেষ্টা করবে। এর ফলেহরতাল-অবরোধ রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে জনজীবন আবারো স্থবির হয়ে পড়বে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করবে।
নির্বাচন যদি ইনক্লুসিভ না হয়, তবে সেই সরকারের নৈতিক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা বিগত দিনে আমরা দেখেছি। সাধারণ মানুষ মনে করতে পারে তাদের ভোটের কোনো মূল্য নেই, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অনীহা তৈরি করে। ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং জবাবদিহিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে সারাবিশ্ব নজর রাখে। ইনক্লুসিভ নির্বাচন না হলে স্যাংশন বা নিষেধাজ্ঞা: উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা সংস্থাগুলো বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা ভিসা নীতি আরোপ করতে পারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে ফান্ডিং বা অনুদান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। অস্থিরতার ভয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পিছু হটে, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। বিশেষ করে পোশাক শিল্প (RMG) আন্তর্জাতিক ইমেজ সংকটে পড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
একটি একপাক্ষিক নির্বাচন সমাজের মানুষের মধ্যে বিভক্তি বাড়িয়ে দেয়। এটি উগ্রবাদ বা চরমপন্থার পথ প্রশস্ত করতে পারে, কারণ নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে জায়গা না পেয়ে অনেকে ভিন্ন পথ বেছে নিতে পারে।
পরিশেষে ,ইনক্লুসিভ ইলেকশন কেবল একটি রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদা রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট
আপনার মতামত লিখুন :