চিরঞ্জীবের উপর ভরসা


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৫, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন /
চিরঞ্জীবের উপর ভরসা

​​হাবিবুর রহমান হাবিব

গ্রামের এক নিভৃত কোণে বাস করেন বৃদ্ধ মোবারক চাচা। তাঁর জীবনের সম্বল বলতে সামান্য এক টুকরো জমি আর সৃষ্টিকর্তার ওপর অগাধ বিশ্বাস। একবার সেই জনপদে দেখা দিল ভয়াবহ খরা। পুকুরের জল শুকিয়ে কাঠ, মাঠের সোনালি ফসল তপ্ত রোদে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। চারদিকে যখন অন্নের হাহাকার আর কৃষকের আর্তনাদ, তখন মোবারক চাচাকে দেখা গেল একদম শান্ত ও অবিচল।
​তাঁর এক প্রতিবেশী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “চাচা, সবাই দুশ্চিন্তায় দিশেহারা, অথচ আপনি এত নিশ্চিন্ত! ফসল না হলে খাবেন কী? সংসার চলবে কীভাবে?”
​মোবারক চাচা মৃদু হেসে আকাশের দিকে তাকালেন। পরম নির্ভরতায় নিচু স্বরে পাঠ করলেন— “আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।”
​তিনি বুঝিয়ে বললেন, “বাবা, আমরা যাঁর ইবাদত করি, তিনি চিরঞ্জীব। তিনি ‘হাইয়্যু’—তাঁর মৃত্যু নেই। আর তিনি ‘কাইয়্যুম’—অর্থাৎ তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং এই মহাবিশ্বের সবকিছুর একমাত্র রক্ষণাবেক্ষণকারী। যখন পুরো পৃথিবী আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখনও তিনি সজাগ থাকেন। তন্দ্রা বা ঘুম তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। আমাদের রিজিকের দায়িত্ব তো তাঁরই হাতে, তবে আমরা কেন বিচলিত হব?”
​প্রতিবেশীটি মাথা নিচু করে ভাবল, আসলেই তো! আমরা বিপদে পড়লে কেবল বাহ্যিক উপায় খুঁজি, কিন্তু যিনি আসল সাহায্যকারী এবং সবকিছুর আধার, তাঁকে ডাকতে ভুলে যাই।
​মোবারক চাচার এই অটল বিশ্বাসের কথা দ্রুত পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল। গ্রামবাসীরা উপলব্ধি করল, বিপদ যত বড়ই হোক, তাদের অভিভাবক সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই অটল বিশ্বাস তপ্ত রোদেও তাদের দগ্ধ মনে প্রশান্তির শীতল হাওয়া এনে দিল।
​গল্পের শিক্ষা:
আমরা যখন অন্তরে এই বিশ্বাস স্থাপন করি যে আল্লাহ ‘কাইয়্যুম’ বা সবকিছুর ধারক, তখন জাগতিক কোনো দুশ্চিন্তা আমাদের বিচলিত করতে পারে না। আমাদের জীবন, জীবিকা এবং পৃথিবীর প্রতিটি ধূলিকণা যাঁর নিয়ন্ত্রণে, সেই মহান সত্তার ওপর পূর্ণ ভরসা রাখলে কঠিন সময়ও সহজ হয়ে যায়।

লেখক পরিচিতি:
হাবিবুর রহমান হাবিব
সাংবাদিক
শাল্লা, সুনামগঞ্জ।