সিলেটে ভয়াবহ বন্যার অযুহাতে আরেকদফা বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম; বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগও


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : মে ২২, ২০২২, ৭:০৭ অপরাহ্ন /
সিলেটে ভয়াবহ বন্যার অযুহাতে আরেকদফা বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম; বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগও

সিলেট প্রতিনিধিঃ

সিলেটে একদিকে ভয়াবহ বন্যার দুর্ভোগ, অন্যদিকে হঠাৎ করে বেড়েছে সকল নিত্যপণ্যের দাম। ফলে সাধারণ মানুষের জন্যে জীবনযাপন খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

গত মাসের চাইতে এই মাসে প্রায় সকল পণ্যের দামই আরেকদফা বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রবমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, ডাল, আটা, সবজি, ডিম, মুরগির দাম বেড়েছে।কয়েক দিন ধরে চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে সব ধরনের চালের। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও প্রতিকেজি চালের দাম ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দেখা গেছে।

ধানের ভরা মৌসুমে চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজারে নতুন চাল এলে দাম অনেকটা কমে যায়, কিন্তু, এ বছর ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন সব ধরণের চালের দাম ১-২টাকা করে বেড়েই চলেছে।

ভারত থেকে গম রফতানি বন্ধের ঘোষণায় এক সপ্তাহে বাজারে আটা-ময়দার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা বাজারে আটার দাম কেজিতে ১০-১২ টাকা এবং ময়দার দাম ৬ টাকা বেড়েছে। নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি আটার দাম ছিলো ৩২-৩৩ টাকা। হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ক্রেতাদেরকে ৪২-৫০ টাকা কেজিদরে আটা কিনতে হচ্ছে।

বাজারে চায়না রসুনের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে আর দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা। ডালের দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে দেশি মসুর ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে এবং ইন্ডিয়ান (বড়) মসুর ১১০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। প্যাকেট চিনির মূল্য ৮৫-৯০ টাকা প্রতি কেজি। প্যকেটজাত গুড়োদুধও মানভেদে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০-৪০ টাকা। সোয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা লিটারে গিয়ে স্থির হয়েছে।

পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা করে। ভালো মানের পেঁয়াজের কেজি ৪৫ টাকা। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আমদানি বন্ধ থাকায় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বেশি বাড়ার শঙ্কা নেই। আমদানি শুরু হলে পেঁয়াজের বাজারদর হ্রাস পাবে।

ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালিকা ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গরুর মাংস ৭০০ এবং খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

লাল ডিমের ডজন ১২০ টাকা, হাঁসের ডিমের ডজন ১৬০, দেশি মুরগির ডিমের ডজন ১৯০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, বন্যার কারণে বাজারে সবজির দাম চড়া। সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজারে লম্বা এবং গোল বেগুনের কেজি ৫০-৭০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০- ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০-৮০ টাকা পিস, চিচিঙ্গা ৫০/৬০ টাকা, পটল এবং ঢেঁড়স ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০-৮০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, বরবটি এবং শসা ৬০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকা, লাউ আকারভেদে ৬০ টাকা, কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচ প্রতিকেজি ১৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতি হালি ২০থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এহেন বাজার পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষেরা এক দুর্বিসহ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।