কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ভিড়
দ্যা সিলেট পোস্ট
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২০, ২০২১, ১:০৭ পূর্বাহ্ন /
০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
শীত মৌসুম, মহান বিজয় দিবস ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গত তিন দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের টিকেটের ফি ও পার্কিং থেকে ২ লাখ ৯১ হাজার ৬৩১ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। টানা তিন দিনের ছুটিতে শনিবার পর্যন্ত কমলগঞ্জের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র সারা দেশ থেকে আগত পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত ছিল। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, সবুজ চা-বাগান ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধে ছুটে বেড়াচ্ছেন ভ্রমন পিপাসুরা। এদের মধ্যে বেশিরভাগ পর্যটক পরিবার পরিজন ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেখতে এসেছেন। অধিকসংখ্যক পর্যটক আসায় অনেক খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, পর্যটকদের সাথে সাথে লাউয়াছড়ার মূল ফটকের আশেপাশে বেড়েছে ময়লার স্তূপ। বনবিভাগের পক্ষ থেকে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও বেশীরভাগ পর্যটক তা ব্যবহার করছেন না। এ নিয়ে বিরক্ত অনেক সচেতন
পর্যটক। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জেরিন খান বলেন, ‘যান্ত্রিক নাগরিক জীবনের ব্যস্থতার মধ্যে ছুটি পেলেই চেষ্টা করি প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার। আর সেই কারণে এই ছুটিতে লাউয়াছড়া ঘুরতে এসেছি পরিবার পরিজন নিয়ে। কিন্তু এখানে
এসে মন খারাপ হল। এত পর্যটক এবং তাদের হৈ চৈ, যত্রতত্র প্লাস্টিকের খালি বোতল, চিপসের প্যাকেট। এভাবে চলতে থাকলে বন্যপ্রানী এবং প্রকৃতির ক্ষতি হবে।’
রংপুর থেকে পরিবার নিয়ে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া এসেছেন শাকিল আহমেদ। তিনি বলেন বিজয়ের ৫০ বছরে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসলাম প্রাকৃতিক পরিবেশে। একটি উপজেলায় এতোগুলো পর্যটন কেন্দ্র আছে, যা অন্য কোথাও নেই। এখানকার চা-বাগান, মাধবপুর লেক ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান যা সকল পর্যটককে প্রাণ এনে দেয়। সরকারিভাবে এখানকার পর্যটন শিল্পের জন্য ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন। রংপুর থেকে আগত পর্যটক আং আহাদ বলেন, বিজয় দিবস ও টানা ৩ দিনের ছুটি থাকায় বন্ধুকে নিয়ে চলে আসলাম কমলগঞ্জে। লাউয়াছড়ায় বন্য প্রাণীদের সাথে সময় কাটাতে অনেক ভালো লাগে। সময় পেলেই কমলগঞ্জে চলে আসি আমি। ‘‘বন্যপ্রাণীর ঘর লাউয়াছড়া। তাই তাদের ঘরে আগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃতি বান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবেই আমাদের সংরক্ষিত বন কেন্দ্রিক যে পর্যটন ব্যবস্থা তা স্থায়ী হবে। নয়তো সংকট বাড়বে। প্রকৃতি ভাল না থাকলে মানব সভ্যতাও হুমকিতে পড়বে। তাই মানুুষের
নিজের স্বার্থে হলেও প্রকৃতিকে ভাল রাখতে হবে।’’ পর্যটন ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন কমলগঞ্জে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। গত তিন দিনে আমাদের ব্যবসা অনেক ভালো হয়েছে। এদিকে পর্যটকরা যাতে কোথাও কোন ধরনের হয়রানির স্বীকার না হয় সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও পর্যটন স্পট গুলোতে টুরিস্ট পুলিশের টহল টিম রাখা হয়েছে।
লাউয়াছড়া উদ্যানের ইকো ট্যুর গাইড সাজু মার্চিয়াং বলেন, ‘বন্ধের প্রতিদিনই রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক আসেন। চট্টগ্রাম, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে পর্যটকরা লাউয়াছড়ায় এসে উপভোগ করেছেন। কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে, কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে; আবার অনেক এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরাও এসেছেন।’ বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, টানা ৩ দিনের ছুটিতে উপচেপড়া ভিড় ছিল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। এর মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় ৭ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছে। বিজয় দিবসের দিনে ২ হাজার ৮৩৫ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। তার মধ্যে ৮ জন ছিলেন বিদেশী। সেদিন আয় হয় ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৫৯ টাকা। এরপরের দিন শুক্রবার ২ হাজার ২৯৩ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। এর মধ্যে একজন ছিলেন বিদেশী। এতে রাজস্ব আয় হয় ১ লাখ ৯ হাজার ১৯০ টাকা। ছুটির শেষ দিন শনিবারে প্রবেশ করেন ১ হাজার ৫৭৮ জন পর্যটক। যার মধ্যে ৬ জন বিদেশী। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬ হাজার ৮৮৫ টাকা। বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজউল করিম চৌধুরী বিজয় দিবসের তিন দিনের ছুটিতে অধিক পর্যটকের কারণে বনের বন্যপ্রাণী দৌড়ে অনেকটা গভীর অরণ্যে চলে যায়। এছাড়াও বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ থাকে না। বনে অনেক ধরণেল গুল্ম রয়েছে যা পর্যটকদের পায়ে পিষ্ট হয়ে যায়।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, ‘৩ দিনে প্রচুর পর্যটক এসেছিলেন। আমরা সব সময়ই পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সজাগ থাকি। তবে এবার হঠাৎ
পর্যটকের আগমন কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরিকল্পনা সেভাবে গ্রহণ করি। ফলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :