
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সুনামগঞ্জের পশ্চৎপদ হাওর অধ্যুসিত শাল্লা উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান ২০ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেস্তে যেতে বসেছে। করোনা পরবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও ওই শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্তিতির কারনে
শাল্লায় তা বাস্তবায়িত হচ্ছেনা। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপর্যস্থতা কাটিয়ে উঠার স্বপ্ন ম্লান হয়ে পড়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দীর্ঘ অনুপস্থির কারনে শিা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারীদের সরকারি অংশের বেতন-ভাতা প্রাপ্তির ল্েয ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে নথিপত্র পাঠানো, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিক পর্যবেণ করা, শিাভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প তদারকি, উপবৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। উপজেলা শিক্ষা বিভাগের এই কর্মকর্তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি অভিভাবক ও সুধি সমাজে সমালোচনা-সমালোচনা থেমে নেই।
জানা যায়, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তিনি নিজেকে একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও অদৃশ্য মতার দাপট দেখিয়ে ২০ মাস কর্মস্থলে না থেকেও নিয়মিত বেতন নিচ্ছেন। শুধু মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে পরিছন্নতা কর্মী ও আয়া নিয়োগের নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা হলে ঢাকা থেকে শাল্লা উপজেলায় এসেছিলেন তিনি। নিয়োগ দিয়েই আবার ঢাকায় চলে যান, এখনো তার দেখা মেলেনি শাল্লার মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে। এই কর্মকর্তার বিষয়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় অবগত থাকলেও এখনো কোন কার্যকরী ভূমিকা নিতে না পারায় উপজেলার বিভিন্ন অফিসে তুমুল আলোচনা হচ্ছে আর কর্মকর্তারাও বিব্রতবোধ হচ্ছেন।
জেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাধিকবার এই শিা কর্মকর্তার অনিয়মের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে লেখালেখি করেও কোনো ফল পাচ্ছেননা। তার খুটির জোড় কোথায় এ নিয়েও চলছে
নানান সমালোচনা।
প্রশাসনের কর্তাদের তোয়াক্কা না করে ২০ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় শাল্লা উপজেলায় আলোচনা ছাড়িয়ে এবার জেলা জুড়ে তিনি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। গেল বছর মার্চ মাসে ক’দিন কর্মস্থলে থাকলেও এরপর থেকেই
উপজেলার বাহিরে অবস্থান করছেন তিনি। জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাধিকবার রেজুলেশনের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে সুপারিশ করেছেন। কিন্তু এর
কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা এখনো গ্রহন করা হয়নি। এদিকে শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে চিঠিও দিয়েছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা শিক্ষকর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান ২০১৮ সালে যোগদান করার পর-পরই মাসে ২-৪ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন তিনি। তবে গত ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে ২০ মাস ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান কে মুঠো ফোনে ফোন দিলে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই ফোন লাই কেটে দেন। পড়ে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিপ করেননি।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মোক্তাদীর হোসেন বলেন, শিক্ষা‘ কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে আমাদের উপজেলার মাধ্যমিক শিাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে অবগত করেছি। এখনো তিনি কর্মস্থলে
অনুপস্থিত আছেন।
জেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান প্রায় দুই বছর ধরে কর্মস্থলে না থাকায় তাকে নিয়ে আমরা বিব্রত হচ্ছি। তাকে কর্মস্থলে আসার জন্য বলায় আমার সাথে অশালীন আচরণ করে আমাকে হুমকি-ধমকিও দিয়েছেন। আমি শংকিত হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় জিডিএন্ট্রি করেছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছি। মন্ত্রনালয়ে তার বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :