
মঈনুদ্দীন শাহীন কক্সবাজার থেকে
ঠা ঠা রোদে শুরু হচ্ছে প্রতিদিনকার সকাল। একটু একটু করে বাড়ছে সূর্যের তাপ। প্রচণ্ড গরমে বেলা বাড়তেই পথে-ঘাটে কমে যাচ্ছে লোকের সংখ্যা। তবুও পেটের দায়ে অনেকেই আবার গতর খেটে খাবারের যোগান দিতে দিকবেদিক ছুটছে। কাজের সূত্রে সারা দিনের জন্য যাদের রাস্তায় থাকতে হচ্ছে, তাদের অবস্থা তো দফারফা। এই তীব্র গরমে যাদের যাদের একটু বিশ্রামের দরকার তারা ঘরে গিয়েও পাচ্ছেনা একটু প্রশান্তি, কারন বিদ্যুৎ এই আছে তো এই নেই।
কক্সবাজার জেলায় রমজান শুরুর আগে গরমের তীব্রতা একটু কম থাকলেও কয়েক রোজা যাওয়ার সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরমেরভমাত্রা। অন্যদিকে চলছে পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি। এই আসে আর এই যায়। এ নিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছে কক্সবাজার জেলার মানুষ। তীব্র গরম, বৃষ্টিহীন, বিদ্যুৎ হীন এক বিপর্যস্ত সময় পার করছে এ অঞ্চলের মানুষ। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় প্রচন্ড গরমে অসংখ্য গভীর নলকুপ স্থাপনের কারনে পানির স্থর নিচে নেমে গিয়ে অধিকাংশ অগভীর নলকুপে পানি উঠছেনা। দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। দিন ভর রোদের প্রভাবে রাতেও বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপদাহ। দেখা নেই ঝড়-বৃষ্টির।
একটুখানি বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছেন মানুষ। মাঝেমধ্যে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলেও কিছুক্ষণ পর তা মিলিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া প্রার্থনা করতেও দেখা গেছে। কিন্তু কিছুতেই যেনো হিসেব মিলছেনা। কেনো এই পানি সংকট। স্থানীয় অনেক সাধারণ মানুষ এ ব্যপারে দুষছেন অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর চাপকে। তারা বলছেন আগে কখনো তাদের এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। রোহিঙ্গা আসার কারনে তাদের সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত অসংখ্য জনসাধারণের জন্য অপরিকল্পিত বাসা বাড়ী নির্মান ও এসব বাসা বাড়ীতে গভীর নলকুপ স্থাপনের কারনেই এলাকায় এমন সুপেয় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। তারা যতো দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সরকারের কাছে জোর দাবী জানান।
এদিকে কিছুটা প্রশান্তির জন্য মানুষ যে গাছের ছায়াতলে যাবে সেই সুযোগ ও নেই। উন্নয়নের নামে এ অঞ্চলে রাস্তার ধারে সহ বনাঞ্চলের অসংখ্য গাছপালা কেটে সাবাড় করে দেয়া হয়েছে। বনাঞ্চল উজাড় করে তৈরি করা হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর আবাসস্থল।
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ সংগঠন গুলো দুষছেন সরকারের অধিনস্থ প্রশাসন ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত আই এন জিও দের। তারা বলছেন বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্টীকে স্থান দেয়া এবং তাদের জন্য আবাসস্থল নির্মান করতে গিয়ে নির্বিচারে গাছপালা কাটা, এবং অসংখ্য গভীর নলকুপ স্থাপন করার কারনে পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় এই পানি সংকট দেখা দিয়েছে। তারা এ ও জানান যে, অতী শীগ্র পানি সংকট সমাধানে এর বিকল্প কোন ব্যবস্থা না নিলে অত্র এলাকায় খরা মহামারি রূপ ধারন করতে পারে। তারা এ বিষয়ে সরকারের জোরানো পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জনান।
এদিকে ১৩ এপ্রিল ২০২২ বুধবার আজকের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা অন্যান্য দিনের চাইতে সহনীয় পর্যায়ে বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :