বানিয়াচংয়ে কচুর লতি চাষ করে স্বাবলম্বী মীরজাহান


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২২, ১১:০৩ অপরাহ্ন /
বানিয়াচংয়ে কচুর লতি চাষ করে স্বাবলম্বী মীরজাহান

নূরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ থেকে

কচু এবং কচুর লতি একটি পুষ্টিকর সবজি। প্রচুর পরিমাণে লৌহ এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এই সবজির চাহিদাও অনেক বেশি। একটা সময় ছিল যখন বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আনাচেকানাচে এবং সবজি বাগানে কচুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যেত। আর কচুর লতির ব্যাপক চাহিদাও ছিল বানিয়াচংসহ পুরো হবিগঞ্জ জেলা জুড়ে।

কচুর লতির চাহিদা এখনও সেই আগের মত থাকলেও কালের বিবর্তনে দিনদিন কমে যাচ্ছে বানিয়াচংয়ের সেই কচুর লতির চাষ। তারপরও বানিয়াচংয়ে হাতে গোনা যে ক’জন কচুর লতি চাষী চোখে পড়ে তাদের মধ্যে মীরজাহান মিয়া একজন।
প্রায় ১৫ বছর যাবত নিয়মিতভাবে কচুর লতি চাষ করছেন উপজেলার আমীরখানী মহল্লার মীরজাহান মিয়া।

মীরজাহান মিয়া জানান, শুরুতে বাড়ির পাশে খালের পাড়ে অল্প পরিমাণে কচুর চাষ করেছিলেন তিনি। তখন শুধু নিজে খাওয়ার জন্য চাষ করতেন। ফলনও হতো বেশ ভালো। এরপর হঠাত একদিন বাণিজ্যিকভাবে কচু চাষ করার চিন্তা মাথায় এলো তার। যেই ভাবনা সেই কাজ। অন্যের জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কচুর চাষ শুরু করেন তিনি। শুরুতে অল্প পরিমাণে কচুর চাষ করলেও বর্তমানে নিয়িমিতভাবে তিনি ৩-৪ কানি জমিতে কচু চাষ করে থাকেন। খাবারের চাউল বাদে সংসারের বাকী খরচটুকু তার লতি বিক্রি থেকেই আসে। তাছাড়াও ৫ সন্তানের মধ্যে ৩ সন্তানের স্কুল এবং কলেজে পড়াশোনার খরচও যোগান এই লতি বিক্রি থেকে।

জানা যায়, মীরজাহান মিয়ার কচুক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, স্কুল পড়ুয়া সন্তান মারজান মিয়াকে নিয়ে ক্ষেত থেকে কচুর লতি তুলছেন তিনি। মীরজাহান মিয়া জানান, কচুর লতি চাষ করতে খরচ খুব কম হয় বটে। তবে কচুর লতি থেকে ভালো মুনাফা পেতে হলে প্রচুর ধৈর্য এবং শ্রমের প্রয়োজন হয়।

তিনি জানান, কচুর চারা রোপনের পর  থেকে নিয়মিত পানিসেচ এবং আগাছা পরিষ্কার করে রাখতে হয়। রোপনের আড়াই থেকে তিন মাস পর শুরু হয় লতি সংগ্রহের কাজ। প্রথমে কচু থেকে লতিগুলো কেটে তুলতে হয়। তারপর সেগুলোকে স্বচ্চ পানিতে ধুয়ে আঁঠি বেঁধে বাজারজাত করতে হয়। আর বাড়িতে লতির আঁঠি বাঁধার কাজে তাঁকে সহায়তা করে থাকেন তার স্ত্রী এবং মেয়েরা।

মীরজাহান মিয়া জানান, প্রতিবছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কচুর গাছ রোপন করে মার্চ মাসের শেষের দিকে লতি সংগ্রহ শুরু করেন তিনি। আর সেই লতি সংগ্রহ চলে এক নাগারে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত। বর্তমানে একদিন পরপর তিনি ৩০ থেকে ৪০ আঁঠি লতি বিক্রি করছেন তিনি। আনুমানিক প্রায় ১ কেজি ওজনের প্রতি আঁঠি পাইকারি দরে ৪০ টাকা করে বিক্রি করছেন তিনি। সেই হিসেবে লতি বিক্রি থেকে একদিন পরপর তার আয় হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা।

মীরজাহান মিয়া জানান, কখনও কখনও এই আয় ২০০০ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। উৎপাদন খরচ একবারেই কম হওয়ায় এই সবজিটি চাষে কখনো ব্যর্থ হননি তিনি।

মীরজাহান মিয়ার লতির নিয়মিত খুচরা বিক্রেতা স্থানীয় বড়বাজারের সবজি ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া।

তিনি জানান, মীরজাহান মিয়ার লতির জাত খুবই ভালো মানের। বিক্রির পাশাপাশি আমি নিজেও নিয়মিত এই লতি খেয়ে থাকি। খেতে খুবই সুস্বাদু। আর তাই বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি।