ফজর নামাজ শেষে আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল ছেলে: মায়ের আহাজারি


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৫, ২০২২, ১১:২২ অপরাহ্ন /
ফজর নামাজ শেষে আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল ছেলে: মায়ের আহাজারি

ডেস্ক রিপোর্ট। দি সিলেট পোস্ট

‘ফজরের নামাজ শেষ করে ছেলে আমার সঙ্গে কথা বলবে বলেছিল। কিন্তু ছেলে আর কথা বলেনি। আর কোনো দিন কথা বলবেও না। আমার প্রেশার বলে আমার ছেলে সব কথা কখনো খুলে বলতো না। আমি স্ট্রোক করে মারা যাব এই ভয়ে- কিন্তু ছেলেই আমার আগে দুনিয়া থেকে চলে গেছে।’

হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সুমনের মা রহিমা বেগম।

জানা যায়, মৌলভীবাজারে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ড আলেপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আতিকুর রহমান সুমন (২৮) নামে এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার ভোর ৫টায় উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বাঘাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সুমনের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

উপজেলার আলেপুর গ্রামের মৃত আবু মিয়ার ছেলে সুমন প্রায় ১৫ বছর ধরে নবীনগর থানার  শিবপুর ইউনিয়নের বাঘাউড়া এলাকায় ‘মায়ের দোয়া ফার্নিচার মাঠ নামের’ ফার্নিচারের দোকান পরিচালনা করে আসছিল। তিনি ওই গ্রামের একটি বাড়িতে বেশ কয়েক বছর ধরে ভাড়া থাকতেন।

নিহতের মা রহিমা বেগম আরও বলেন, আমার ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। গত শবেবরাতের আগে বাড়ি এসেছিল।

তিনি আরও বলেন, রোববার ছেলে ফোনে বলেছিল- আমার দোকানে কে যেন আগুন দিয়েছিল, তবে মানুষজন আগুন নিভিয়ে ফেলায় কোনো ক্ষতি হয়নি। এদিকে সোমবার ভোররাতে ছেলেকে ফোন দিয়েছিলাম। সে বললো, নামাজের সময় হয়ে গেছে ,নামাজ শেষে কথা বলব।

মা রহিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে আর কথা বলতে পারেনি আর পারবেও না। তিনি তার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সুমনকে গুলি করে হত্যা করার কথা জানতে পেরে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সাকিল ও নিহতের বড় দুই ভাইকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যান।

কাউন্সিলর সাকিল বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর হাসপাতালে আছি। সুমনের লাশ নিয়ে সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে নিজ এলাকায় নিয়ে আসা হবে।

এদিকে নবীনগর থানার ওসি আমিনুর রশীদ জানান, বাঘাউড়া গ্রামের বাজারে সুমনের একটি ফার্নিচারের দোকান আছে। সোমবার ভোররাতে সেহরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। সেহরি খেয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই কে বা কারা তাকে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।