পীর হাবিব ছিলেন গণমানুষের পক্ষের কলমযোদ্ধা


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : মার্চ ১২, ২০২২, ১২:৪৩ অপরাহ্ন /
পীর হাবিব ছিলেন গণমানুষের পক্ষের কলমযোদ্ধা
তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ 
সুনামগঞ্জে সাংবাদিক ও কলামিস্ট, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সুনামগঞ্জ পৌরসভা এ নাগরিক শোকসভার আয়োজন করে।
শোকসভায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিককর্মী, ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
শোকসভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘পীর হাবিব ছিলেন আমাদের পরিবারের একজন। সুনামগঞ্জের উন্নয়ন, অগ্রগতি নিয়ে তার সাথে কথা হতো। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করতেন। আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত হওয়ার পর তিনি রাজনীতির ব্যাপারে আমাকে অনেক সুপরামর্শ দিতেন। তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সুনামগঞ্জকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিলেন।’
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলাম। আর পীর হাবিব প্রস্তুত ছিলেন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার জন্য জীবন দিতে। আমরা যে দেশের জন্য লড়াই করেছিলাম সেই দেশ আমরা পাইনি। মুক্তিযোদ্ধাদের আকাক্সক্ষার দেশ গড়তে প্রতিনিয়ত লিখত পীর হাবিব। তার জীবন আরও দীর্ঘ হলে দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো। আমার জীবনের সুকর্মের বিনিময়ে আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।’
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ‘এরশাদ সরকারের আমলে রাজনীতির জন্য পীর হাবিব জেল খেটেছিলেন, আবার এরশাদ সাহেবের সাথে তার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। এরশাদের সমালোচকও ছিলেন তিনি। আমি জাতীয় সংসদে পীর হাবিবের লেখার উদ্বৃতি দিতাম। দেশের একজন প্রথম সারির কলামযোদ্ধা যার গাড়ি-বাড়ি ফ্ল্যাট নেই। এই প্রজন্মের সাংবাদিকদের তাকে অনুসরণ করা উচিত।’
সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘পীর হাবিব জঙ্গিবাদ, পাকিস্তানপন্থা, সামরিক শাসনের বিপক্ষে এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে আজীবন লিখে গেছেন। মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর পীর হাবিব স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কলমযোদ্ধা ছিলেন। তিনি দুহাত খুলে লিখতেন। তার কলমের ডগা দিয়ে আগুনের ফুলকি বেরুতো। এভাবে লিখতে বুকের পাঠা লাগে, যেটা তাঁর মধ্যে ছিল।
নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, ‘সাধারণ পরিবার থেকে ওঠে আসা পীর হাবিব সাধারণ মানুষের পক্ষেই কথা বলতেন। তার আগুনঝরা লিখনীতে সাধারণ মানুষের কথা ফুঠে ওঠতো। পীর হাবিব আমার চেয়ে হাজারগুণ বেশি সাহসী ছিলেন। বাংলাদেশের মানচিত্রে এখন শকুনের চোখ পড়েছে। এখন পীর হাবিবের মতো সাহসী মানুষের দরকার ছিল। তাকে সুনামগঞ্জের মানুষ এতটা ভালবাসে আমি এখানে না আসলে বুঝতে পারতাম না।’
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখতের সভাপতিত্বে ও সজ্জাদুর রহমান সাজুর সঞ্চালনায় শোকসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান, মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুস সামাদ ডন, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, সিনিয়র সাংবাদিক প্রণব সাহা, সাবেক ফুটবালার কায়সার হামিদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না।
পীর হাবিবের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, তাঁর সহোদর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান পীর ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, পীর হাবিবের ছেলে ব্যারিস্টার আহনাফ ফাহমিন অন্তর ও মেয়ে রাইসা নাজ চন্দ্রস্মিতা।